আমেরিকায় হস্তান্তরের বিরুদ্ধে আপিলের অধিকার পেলেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ আমেরিকায় হস্তান্তরের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন লন্ডনের হাইকোর্ট। সোমবার হাইকোর্টের দুই বিচারপতি এ রায় দেন। এর ফলে অ্যাসাঞ্জ আপাতত যুক্তরাজ্যেই থাকছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। খবর ইন্ডিপেনডেন্ট।
সামরিক গোপনীয়তা ফাঁস করার মামলায় অ্যাসাঞ্জকে বিচারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো– জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ তাঁর সম্ভাব্য বিচার কীভাবে পরিচালিত হবে এবং তাঁর বাক স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করা হবে কিনা সে বিষয়ে মার্কিন আশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম হবেন।
আইনি লড়াইয়ে সর্বশেষ এ রায়ের পরে ৫২ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা আদালতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন।
২০১০ ও ২০১১ সালে উইকিলিকস ওয়েবসাইটে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার গোপন নথি ফাঁস করা হয়। এরপর থেকে অ্যাসাঞ্জ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গোপন নথি ফাঁসের ঘটনায় বিচারের জন্য অ্যাসাঞ্জকে আমেরিকায় হস্তান্তরের অনুমোদন দেয় যুক্তরাজ্য সরকার। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা। তাঁরা জানান, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এরপর মার্চে হাইকোর্টের একটি রায়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাঞ্জকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না, সেই নিশ্চয়তা না দিলে তিনি হস্তান্তরের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে আইনি লড়াই চালানোর সুযোগ পাবেন। নিশ্চয়তা না পেলে অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিও দেওয়া হবে।
গত মাসে এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে আশ্বস্ত করা হয়েছে বলে বিচারপতিরা জানিয়েছেন।
অ্যাসাঞ্জ বর্তমানে বেলমার্শ কারাগারে রয়েছেন। এখন তিনি আপিল প্রস্তুত করার জন্য কয়েক মাস সময় পাবেন।
আপিলে মার্কিন আদালতে সম্ভাব্য বিচার কীভাবে পরিচালিত হবে এবং অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণের কারণে একজন বিদেশি নাগরিক হিসেবে বিচারের সময় বাক স্বাধীনতার অধিকার রক্ষা হবে কি না, সেসব বিষয়ে অ্যাসাঞ্জ তার বক্তব্য তুলে ধরবেন।
অ্যাসাঞ্জ দাবি করেন, ২০১০ সালে তিনি যেসব নথি ফাঁস করেছেন, সেগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
প্রসিকিউটররা জানায়, এ নথি ফাঁস হওয়ার কারণে অনেকের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ডিবিটেক/বিএমটি





